সরকারি টেন্ডার কোথায় খুঁজব?
সব সরকারি টেন্ডার e-GP পোর্টাল eprocure.gov.bd-তে আসে। কিন্তু সেখানে রোজ শত শত টেন্ডার, খুঁজে বের করা কঠিন। ProcureIndex একই পাবলিক তথ্য জেলা, কাজের ধরন আর অফিস ধরে সাজিয়ে দেখায়। আজকের নতুন টেন্ডার দেখুন, নিজের জেলা বেছে নিন, আর রোজ সকাল-বিকেল ফ্রি অ্যালার্ট নিন।
কিছু টেন্ডার এখনও পত্রিকায় আর অফিসের নোটিশ বোর্ডে আসে, কিন্তু বেশিরভাগ সরকারি কেনাকাটা এখন e-GP দিয়েই হয়। তাই e-GP-র তথ্য নিয়মিত দেখাই সবচেয়ে ভরসার পথ।
e-GP রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করব, খরচ কত?
eprocure.gov.bd-তে গিয়ে নতুন টেন্ডারার হিসেবে রেজিস্টার করতে হয়। ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ফার্মের তথ্য দেবেন, ট্রেড লাইসেন্স, TIN, BIN, ব্যাংকের তথ্য আর NID আপলোড করবেন, তারপর e-GP-র পার্টনার ব্যাংকে ফি দেবেন। নতুন রেজিস্ট্রেশন ফি বহু বছর ৫,০০০ টাকা আর বছরে নবায়ন ২,০০০ টাকা ছিল।
ফি আর কাগজের লিস্ট মাঝে মাঝে বদলায়, তাই রেজিস্টার করার আগে e-GP-র সর্বশেষ নোটিশ মিলিয়ে নিন। যাচাই শেষ হতে কয়েক দিন লাগতে পারে, তাই পছন্দের টেন্ডার আসার আগেই কাজটা সেরে রাখুন।
টেন্ডার সিকিউরিটি (জামানত) কত টাকা দিতে হয়?
টেন্ডার সিকিউরিটির অঙ্ক টেন্ডার নোটিশে টাকায় লেখা থাকে, সেটাই দিতে হয়। অফিস এটা এস্টিমেটের একটা ছোট অংশ ধরে ঠিক করে, নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত ৩%-এর মধ্যে। আমাদের হিসাবে বাস্তবে বেশিরভাগ টেন্ডারে এটা কাজের দামের মোটামুটি ২.৫ থেকে ৩%। তাই সিকিউরিটি দেখে কাজের আকারও আন্দাজ করা যায়।
শতাংশের নিয়ম সংশোধনীতে বদলাতে পারে। সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন, আর অঙ্কের জন্য সবসময় নোটিশের সংখ্যাটাই মানুন।
টেন্ডার সিকিউরিটি কীভাবে দেব?
e-GP টেন্ডারে সিকিউরিটি সাধারণত e-GP-র পার্টনার ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে দেওয়া হয়। ব্যাংক টাকা নিয়ে সিস্টেমে কনফার্ম করে দেয়, তারপর আপনার বিডে সেটা দেখায়। কিছু টেন্ডারে ব্যাংক গ্যারান্টি বা পে-অর্ডার চলে। কোনটা চলবে, টেন্ডার ডকুমেন্টে লেখা থাকে। ক্লোজিংয়ের অন্তত এক দিন আগে কাজটা সেরে ফেলুন।
সিকিউরিটির ভ্যালিডিটি টেন্ডারের ভ্যালিডিটির চেয়ে সাধারণত ২৮ দিন বেশি রাখতে হয়। ভ্যালিডিটি কম হলে বিড বাতিল হতে পারে।
পারফরম্যান্স সিকিউরিটি কী, কত দিতে হয়?
কাজ পাওয়ার পর চুক্তি সই করার আগে যে জামানত দিতে হয়, সেটাই পারফরম্যান্স সিকিউরিটি। এটা দেখায় যে আপনি কাজটা ঠিকমতো শেষ করবেন। পরিমাণ টেন্ডার ডকুমেন্টে থাকে, সাধারণত চুক্তিমূল্যের ৫ থেকে ১০%। রেট এস্টিমেটের চেয়ে অনেক কম হলে বাড়তি সিকিউরিটিও চাওয়া হতে পারে।
সাধারণত ব্যাংক গ্যারান্টি বা পে-অর্ডারে দিতে হয়, আর কাজ শেষ হওয়া ও ত্রুটি সারানোর সময় (ডিফেক্ট লায়াবিলিটি) পার হওয়ার পর ফেরত পাওয়া যায়। শতাংশ আর সময় সংশোধনীতে বদলাতে পারে, সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
NOA কী, পেলে কী করতে হয়?
NOA (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) হলো অফিসের পাঠানো চিঠি যে কাজটা আপনি পেয়েছেন। পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে e-GP-তে NOA গ্রহণ করতে হয়, পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দিতে হয়, তারপর চুক্তি সই হয়। সময় পার হলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হতে পারে, আর কাজ পরের জনের কাছে চলে যেতে পারে।
NOA-র চিঠিতেই সময়সীমা লেখা থাকে। প্রচলিত নিয়মে NOA গ্রহণ ৭ কাজের দিনের মধ্যে আর চুক্তি সই ২৮ দিনের মধ্যে, তবে আপনার চিঠির তারিখগুলোই মানুন।
OTM, LTM, RFQ আর DPM-এর পার্থক্য কী?
এগুলো কেনাকাটার পদ্ধতি। OTM (ওপেন টেন্ডার) সবার জন্য খোলা। LTM (লিমিটেড টেন্ডার) শুধু অফিসের এনলিস্টেড ঠিকাদারদের জন্য, সাধারণত ছোট কাজে। RFQ (কোটেশন) কম টাকার কেনাকাটায় কয়েকজনের কাছ থেকে কোটেশন নেওয়া। DPM (সরাসরি কেনা) একজনের কাছ থেকে সরাসরি কেনা, বিশেষ কারণ থাকলে।
কোন পদ্ধতি কত টাকা পর্যন্ত চলবে, সেই সীমা বিধিমালার শিডিউলে থাকে আর মাঝে মাঝে বদলায়। সর্বশেষ সীমা e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
টেন্ডার ডকুমেন্ট কীভাবে কিনব?
e-GP টেন্ডারে ডকুমেন্ট অনলাইনে কিনতে হয়। লগইন করে টেন্ডারটা খুলবেন, ডকুমেন্টের দাম e-GP-র পার্টনার ব্যাংকে বা অনলাইন পেমেন্টে দেবেন, তারপর ডকুমেন্ট ডাউনলোড আর বিড করার সুযোগ খুলবে। ডকুমেন্টের দাম টেন্ডার নোটিশে লেখা থাকে। এই টাকা পরে আর ফেরত পাবেন না।
দাম দেওয়ার আগে নোটিশ ভালো করে পড়ুন: যোগ্যতা, লিকুইড অ্যাসেট, টার্নওভার আর অভিজ্ঞতার শর্ত মেলে কি না দেখে নিন। ProcureIndex-এ প্রতিটি টেন্ডারের পাতায় ডকুমেন্টের দাম আর ক্লোজিং দেখা যায়।
ProcureIndex কি সরকারি সাইট?
না। ProcureIndex একটা স্বাধীন সেবা। আমরা eprocure.gov.bd-এর পাবলিক পাতা থেকে টেন্ডার আর কে কাজ পেল সেই তথ্য নিয়ে সহজ করে সাজাই। এখান থেকে বিড করা যায় না, ডকুমেন্টও কেনা যায় না। বিড, পেমেন্ট আর অফিসের সঙ্গে সব কাজ e-GP-তেই করতে হয়।
আমরা সরকারের কেউ নই, কোনো অফিসের হয়ে কাজও করি না। কোনো তথ্যে ভুল দেখলে বিড করার আগে eprocure.gov.bd-তে মিলিয়ে নিন, আর আমাদের জানান।
ProcureIndex কী করে, কী করে না?
ProcureIndex নতুন টেন্ডার খুঁজে দেয়, জেলা আর কাজের ধরন ধরে সাজায়, কে কোন কাজ কত টাকায় পেয়েছে দেখায়, আর ফ্রি অ্যালার্ট পাঠায়। আমরা টেন্ডার পাইয়ে দিই না, কোনো অফিসে তদবির করি না, আর আপনার হয়ে বিডও করি না। সিদ্ধান্ত সবসময় আপনার।
কোনো দালাল বা লোক যদি ProcureIndex-এর নাম নিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে, বিশ্বাস করবেন না।
নতুন টেন্ডারের অ্যালার্ট কীভাবে পাব?
যেকোনো জেলা বা টেন্ডারের পাতায় অ্যালার্টের বক্সে মোবাইল নম্বর দিন, অথবা Telegram-এ এক ট্যাপে চালু করুন। লগইন লাগে না, টাকাও লাগে না। আপনার জেলা, কাজের ধরন বা কি-ওয়ার্ডের সঙ্গে মেলে এমন নতুন টেন্ডার রোজ সকাল ৮টা আর বিকেল ৫টায় চলে আসবে। ইমেইলেও নিতে পারেন।
প্রতিটি অ্যালার্টে একটা লিংক থাকে। সেটা দিয়ে লগইন ছাড়াই ফিল্টার বদলাতে বা অ্যালার্ট বন্ধ করতে পারবেন।
বিড ব্রিফ কী, টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
বিড ব্রিফ একটা টেন্ডারের ছোট রিপোর্ট: ওই অফিসে আপনার বড় প্রতিযোগী কারা, এই সাইজের কাজ সাধারণত কত টাকায় যায়, আর সাম্প্রতিক একই রকম কাজ কে পেয়েছে। দাম ৳৪৯৯, একবারের জন্য, যেকোনো টেন্ডারের পাতা থেকে bKash-এ কিনে নিন। টাকা দিয়ে ব্রিফ না পেলে পুরো টাকা ফেরত।
টাকা যে bKash নম্বর থেকে এসেছে, সেই নম্বরেই ফেরত যায়। ফেরত চাইতে আপনার নম্বর আর TrxID সহ আমাদের লিখুন। বিস্তারিত শর্ত আর টাকা ফেরতের নিয়ম পাতায় আছে।
ProcureIndex-এর তথ্য কতটা নতুন?
নতুন টেন্ডার প্রতি ৩০ মিনিটে আর কে কাজ পেল (NOA) সেই তথ্য প্রতি ৬ ঘণ্টায় সরাসরি eprocure.gov.bd থেকে আনি। প্রতিটি পাতার নিচে শেষ আপডেটের সময় দেখা যায়। e-GP-তে কোনো টেন্ডারের সংশোধনী এলে সেটাও পরের আপডেটে ধরা পড়ে আর টেন্ডারের পাতায় দেখায়।
e-GP নিজে বন্ধ থাকলে বা ধীর চললে আমাদের আপডেটও দেরি হতে পারে। ক্লোজিংয়ের কাছাকাছি সময়ে চূড়ান্ত তারিখ আর সংশোধনী সবসময় e-GP-তে মিলিয়ে নিন।
পুরনো টেন্ডারে কে কত টাকায় কাজ পেয়েছে, দেখা যায়?
হ্যাঁ। e-GP যেসব NOA পাবলিক করে, সেগুলো আমরা জমিয়ে রাখি। কে কাজ পেল পাতায় কাজ, ফার্ম, অফিস আর টাকার অঙ্ক দেখা যায়। প্রতিটি ফার্মের নিজের পাতায় তারা কতবার কাজ পেয়েছে, মোট কত টাকার, আর কোন অফিসে বেশি, সেটাও পাবেন। কত রেটে কোট করবেন, ঠিক করতে কাজে লাগে।
সব NOA e-GP-তে পাবলিক হয় না, তাই কিছু কাজ বাদ পড়তে পারে।