পারফরম্যান্স সিকিউরিটি: কত, কখন, কীভাবে দেবেন
শেষ আপডেট: · ৫ মিনিটে পড়া যায়
- পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হলো কাজ পাওয়ার পর, চুক্তি সইয়ের আগে দেওয়া সিকিউরিটি, যাতে আপনি কাজটা ঠিকমতো শেষ করেন।
- অঙ্ক টেন্ডার ডকুমেন্টে থাকে। তফসিল-২ অনুযায়ী পণ্যে ১০%, কাজে ৫% (অগ্রিম না দেওয়া হলে), ভৌতসেবায় ৫%।
- রেট অফিসের এস্টিমেটের চেয়ে অনেক কম হলে বাড়তি পারফরম্যান্স সিকিউরিটি চাওয়া হতে পারে।
- NOA-তে দেওয়া সময়ের মধ্যে দিতে হয়। দেরি হলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
- কাজ শেষ আর ডিফেক্ট লায়াবিলিটির সময় পার হলে ফেরত পাবেন।
পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হলো কাজ পাওয়ার পর অফিসের কাছে দেওয়া সিকিউরিটি, সাধারণত ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে। এটা দেখায় যে আপনি চুক্তির শর্ত মেনে সময়মতো, ঠিক মানে কাজটা শেষ করবেন। NOA পাওয়ার পর আর চুক্তি সইয়ের আগে এটা দিতে হয়। অঙ্ক টেন্ডার ডকুমেন্টে লেখা থাকে, সাধারণত চুক্তির টাকার ৫ থেকে ১০%।
টেন্ডার সিকিউরিটির সঙ্গে পার্থক্য
দুটো সিকিউরিটি অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। সহজ করে বললে:
| টেন্ডার সিকিউরিটি | পারফরম্যান্স সিকিউরিটি | |
|---|---|---|
| কখন দেবেন | বিডের সঙ্গে | NOA পাওয়ার পর, চুক্তির আগে |
| কে দেয় | যে বিড করে, সবাই | শুধু যে কাজ পেয়েছে |
| কত | নোটিশে লেখা নির্দিষ্ট অঙ্ক, এস্টিমেটের ছোট অংশ | চুক্তির টাকার ৫ থেকে ১০%, ডকুমেন্টে যা লেখা |
| কিসের জন্য | বিড দিয়ে সরে যাবেন না | কাজ ঠিকমতো শেষ করবেন |
| কখন ফেরত | চুক্তি সইয়ের পর | কাজ আর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি শেষে |
টেন্ডার সিকিউরিটি নিয়ে বিস্তারিত আছে টেন্ডার সিকিউরিটি (জামানত) গাইডে।
কত দিতে হবে
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৩৬ আর তফসিল-২ অনুযায়ী হার এই রকম: পণ্যে চুক্তির টাকার ১০% (ভাগ করা যায় এমন পণ্যে ৫%), কাজে ৫% (অগ্রিম না দেওয়া হলে), ভৌতসেবায় ৫%। ১ কোটি টাকা মূল্যের কাজে লাগে না বলে তফসিলে লেখা আছে, নিজের ডকুমেন্টে মিলিয়ে নিন। ধরুন আপনি ২ কোটি টাকায় একটা রাস্তার কাজ পেলেন, অগ্রিম নেই, আর ডকুমেন্টে ৫% লেখা। তাহলে ১০ লাখ টাকার পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দিতে হবে।
হার আর সীমা সংশোধনীতে বদলাতে পারে। সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন। আপনার টেন্ডারে ডকুমেন্টে যা লেখা, সেটাই চূড়ান্ত।
খুব কম রেটে বিড করলে বাড়তি সিকিউরিটি
অনেক ঠিকাদার কাজ পেতে অফিসের এস্টিমেটের চেয়ে অনেক কম রেটে কোট করেন। এমন হলে অফিস বাড়তি পারফরম্যান্স সিকিউরিটি চাইতে পারে, যাতে খুব কম রেটে কাজ নিয়ে মাঝপথে ফেলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। কত কম হলে কত বাড়তি লাগবে, সেটা টেন্ডার ডকুমেন্ট আর সর্বশেষ বিধিমালায় থাকে, আর সময়ের সঙ্গে বদলেছে। তাই কম রেট কোট করার আগে হিসাব করে নিন, কাজ পেলে মোট কত টাকার গ্যারান্টি দিতে পারবেন।
কোন অফিসে কাজ সাধারণত কত রেটে যায়, বুঝতে কে কাজ পেল পাতায় একই অফিসের আগের কাজ দেখুন।
উদাহরণ: একটা কাজের পুরো হিসাব
ধরুন ২ কোটি টাকার একটা Works কাজ পেলেন, অগ্রিম নেই। ডকুমেন্টে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ৫%, রিটেনশন প্রতি বিলে ৫%। তাহলে:
- বিডের সময় টেন্ডার সিকিউরিটি, ধরুন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা, চুক্তি সই পর্যন্ত আটকে।
- চুক্তির আগে ১০ লাখ টাকার পারফরম্যান্স সিকিউরিটি, কাজ আর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি শেষ পর্যন্ত।
- প্রতি বিল থেকে ৫% রিটেনশন, কাজ শেষে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকা। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি শেষে ফেরত।
মানে কাজ চলার সময় ২০ লাখ টাকার মতো আপনার টাকা বা ব্যাংক লিমিট আটকে থাকে। শ্রমিক আর মালামালের খরচ এর বাইরে।
কোন ধরনে দেবেন
টেন্ডার ডকুমেন্টে দেওয়া ধরনেই দিতে হবে। সাধারণত:
- ব্যাংক গ্যারান্টি: সবচেয়ে চালু। কোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে, ডকুমেন্টের ফরম্যাট হুবহু মেনে।
- পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট: কিছু টেন্ডারে চলে, তবে পুরো টাকা আটকে থাকে।
e-GP-তে পারফরম্যান্স সিকিউরিটির তথ্যও সিস্টেমে তুলতে হয়, ব্যাংক বা অফিস সেটা কনফার্ম করে। আপনার টেন্ডারে কোন পথে দিতে হবে, NOA আর ডকুমেন্টে লেখা থাকে।
কখন দিতে হবে
NOA পাওয়ার পর কিছু দিনের মধ্যে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দিতে হয়, তারপর চুক্তি সই। কত দিন, সেটা NOA-র চিঠিতেই লেখা থাকে। বিধি ১২৩ আর তফসিল-২ অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের টেন্ডারে অফিসের এস্টিমেট ৫ কোটি পর্যন্ত হলে সিকিউরিটি ৭ কার্যদিবসে আর চুক্তি সই ১৪ দিনে। ৫ থেকে ২৫ কোটিতে ১০ কার্যদিবস আর ২১ দিন, ২৫ কোটির বেশিতে ১৪ কার্যদিবস আর ২৮ দিন।
সময় পার হলে অফিস আপনার টেন্ডার সিকিউরিটি জব্দ করতে পারে, আর কাজটা পরের যোগ্য বিডারকে দিতে পারে। তাই বিড করার সময়ই ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে রাখুন, কাজ পেলে কত দিনে গ্যারান্টি দিতে পারবে। NOA-র পুরো ধাপ দেখুন NOA কী, পাওয়ার পর কী করবেন গাইডে।
কত দিনের জন্য রাখতে হবে
পারফরম্যান্স সিকিউরিটি পুরো কাজের সময় বৈধ থাকতে হয়, আর তার পরেও কিছু দিন। Works-এ কাজ শেষ হওয়ার পর একটা ডিফেক্ট লায়াবিলিটি সময় থাকে, যখন কোনো ত্রুটি দেখা দিলে আপনাকে নিজের খরচে সারাতে হয়। Goods-এ থাকে ওয়ারেন্টি সময়। বিধি ৩৬(৫) অনুযায়ী কাজ বা সরবরাহ শেষের তারিখের পর ২৮ দিন পর্যন্ত সিকিউরিটি বৈধ থাকতে হয়, আর শেষের তারিখ বাড়লে মেয়াদও বাড়াতে হয়।
কাজ দেরিতে শেষ হলে বা সময় বাড়ানো হলে গ্যারান্টির মেয়াদও বাড়াতে হবে। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে অফিস বিল আটকে দিতে পারে।
কখন ফেরত পাবেন
কাজ শেষ, অফিসের চূড়ান্ত গ্রহণ, আর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি বা ওয়ারেন্টি সময় পার হওয়ার পর অফিস পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেয়। ফেরত পেতে অফিসে লিখিত আবেদন করুন, কাজ সমাপ্তির সনদের কপিসহ।
কখন সিকিউরিটি জব্দ হয়
চুক্তির শর্ত না মানলে অফিস পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ভাঙিয়ে নিতে পারে। যেমন:
- কাজ মাঝপথে ফেলে চলে যাওয়া।
- বারবার নোটিশের পরও নিম্নমানের কাজ বা দেরি।
- ডিফেক্ট লায়াবিলিটির সময় ত্রুটি না সারানো।
রিটেনশন মানি আলাদা জিনিস
Works-এর চুক্তিতে প্রতিটি বিল থেকে একটা অংশ, তফসিল-২ অনুযায়ী সাধারণত ৫%, অফিস রেখে দেয় (বিধি ৩৭)। অগ্রিম না দেওয়া হলে রিটেনশন আর পারফরম্যান্স সিকিউরিটি মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০%, আর দেশি কাজে ২ কোটি পর্যন্ত চুক্তিতে রিটেনশন ১০%। একে রিটেনশন মানি বলে। এটা পারফরম্যান্স সিকিউরিটির বাইরে, আর সাধারণত ডিফেক্ট লায়াবিলিটি শেষে ফেরত হয়। আপনার চুক্তিতে হার কত, শর্তে দেখে নিন। নগদ টাকার হিসাব করার সময় পারফরম্যান্স সিকিউরিটি আর রিটেনশন, দুটোই ধরুন।
টাকার হিসাব আগে করুন
একটা বড় কাজে টেন্ডার সিকিউরিটি, তারপর পারফরম্যান্স সিকিউরিটি, তারপর প্রতি বিলে রিটেনশন। সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আর ব্যাংক লিমিট আটকে থাকে। ছোট ফার্মের জন্য এটাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় চাপ। তাই একসঙ্গে কয়টা কাজ নিতে পারবেন, রেট ঠিক করার আগেই ভেবে নিন।
নিজের সামর্থ্যের মধ্যে টেন্ডার খুঁজতে আজকের টেন্ডার দেখুন, অথবা জেলার পাতায়, যেমন চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা। আরও প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন ও উত্তর দেখুন।
বিধি নম্বরসহ বিস্তারিত আছে টেন্ডার সিকিউরিটি আর পারফরম্যান্স সিকিউরিটি: PPR 2025 পোস্টে।
নিয়ম আর টাকার অঙ্ক মাঝে মাঝে বদলায়। বিড করার আগে সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
উৎস: eprocure.gov.bd