NOA কী, পাওয়ার পর কী করবেন
শেষ আপডেট: · ৫ মিনিটে পড়া যায়
- NOA হলো অফিসের আনুষ্ঠানিক চিঠি যে কাজটা আপনি পেয়েছেন। e-GP-তে আসে, ইমেইলেও খবর আসে।
- PPR ২০২৫ অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের টেন্ডারে NOA-র তারিখ থেকে সিকিউরিটি দিতে ৭, ১০ বা ১৪ কার্যদিবস, আর চুক্তি সই করতে ১৪, ২১ বা ২৮ দিন। এটা অফিসের দাপ্তরিক এস্টিমেট ধরে ঠিক হয়। আপনার চিঠির তারিখই মানুন।
- চুক্তির আগে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দিতে হয়। তফসিল-২ অনুযায়ী পণ্যে ১০%, কাজ আর ভৌতসেবায় ৫%।
- সময় পার হলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হতে পারে, আর কাজ পরের বিডারের কাছে যেতে পারে।
- চুক্তির পর কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) আসে, তারপর কাজ শুরু।
ধাপগুলো
- e-GP-তে লগইন করে NOA-টা খুলুন, চুক্তির টাকা, সময়সীমা আর শর্ত পড়ুন।
- NOA-তে দেওয়া সময়ের মধ্যে e-GP-তে NOA অ্যাক্সেপ্ট করুন।
- ব্যাংক থেকে ডকুমেন্টে লেখা অঙ্কের পারফরম্যান্স সিকিউরিটি নিন আর জমা দিন।
- অফিসের দেওয়া তারিখে গিয়ে চুক্তি সই করুন।
- কার্যাদেশ পেলে কাজ শুরু করুন আর e-GP-তে চুক্তির হিসাব রাখুন।
NOA মানে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড। এটা অফিসের চিঠি, যাতে লেখা থাকে কাজটা আপনি পেয়েছেন, কত টাকায়, কী শর্তে। NOA আসার পর ঘড়ি চলতে শুরু করে। সময়ের মধ্যে NOA অ্যাক্সেপ্ট করতে হয়, পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দিতে হয়, তারপর চুক্তি সই। কোনো ধাপে দেরি হলে কাজটা হাতছাড়া হতে পারে।
NOA কখন আসে
বিড ওপেনিংয়ের পর অফিসের ইভ্যালুয়েশন কমিটি সব বিড যাচাই করে। যার বিড যোগ্য আর রেট সবচেয়ে সুবিধার, সাধারণত লোয়েস্ট, তার নাম অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদন হলে অফিস e-GP থেকে NOA দেয়। আপনার e-GP অ্যাকাউন্টে আর রেজিস্টার করা ইমেইলে খবর আসে।
ওপেনিং থেকে NOA আসতে কত দিন লাগবে, আগে থেকে বলা যায় না। ছোট কাজে কয়েক সপ্তাহ, বড় কাজে কয়েক মাসও লাগে। তবে পুরো সময়টা বিডের ভ্যালিডিটির মধ্যেই হতে হয়। ভ্যালিডিটি ফুরিয়ে এলে অফিস মেয়াদ বাড়াতে অনুরোধ করতে পারে।
ইভ্যালুয়েশনের সময় কী হয়
ওপেনিংয়ের পর কমিটি প্রথমে দেখে বিডটা ঠিকমতো জমা হয়েছে কি না: টেন্ডার সিকিউরিটি আছে কি না, দরকারি কাগজ আছে কি না, সই ঠিক আছে কি না। তারপর যোগ্যতা মেলায়: লিকুইড অ্যাসেট, টার্নওভার, একই রকম কাজের অভিজ্ঞতা। এরপর রেট তুলনা করে, হিসাবের ভুল থাকলে ঠিক করে।
এই সময়ে অফিস কোনো কাগজ নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে। e-GP-তে বা ইমেইলে এমন অনুরোধ এলে দ্রুত উত্তর দিন। তবে এই সুযোগে রেট বদলানো যায় না। ইভ্যালুয়েশন শেষে কমিটির সুপারিশ অনুমোদনকারী কর্মকর্তার কাছে যায়। অনুমোদনের পরেই NOA।
এই পুরো সময়টায় ইমেইল আর e-GP অ্যাকাউন্ট নিয়মিত দেখুন। অনেক ঠিকাদার NOA দেরিতে দেখে সময়সীমা হারান।
NOA-তে কী লেখা থাকে
- কোন টেন্ডার, কোন লট বা প্যাকেজ
- চুক্তির টাকা
- পারফরম্যান্স সিকিউরিটির পরিমাণ আর জমার সময়
- NOA অ্যাক্সেপ্ট আর চুক্তি সইয়ের সময়সীমা
- কাজ শেষ করার সময়
পুরো চিঠিটা ভালো করে পড়ুন। চুক্তির টাকা আপনার কোট করা রেটের সঙ্গে না মিললে কারণটা বুঝে নিন। অফিস হিসাবের ভুল ঠিক করলে এমন হয়।
পাওয়ার পর কী করবেন, কত দিনে
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এ (বিধি ৪৮(৫), ১২৩(৫), ১২৩(৯) আর তফসিল-২) জাতীয় পর্যায়ের টেন্ডারে সময় এরকম:
- NOA ছাড়া: অনুমোদনের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে, আর বিডের ভ্যালিডিটি শেষ হওয়ার আগে অফিস NOA ছাড়ে।
- পারফরম্যান্স সিকিউরিটি: NOA-র তারিখ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে (অফিসের এস্টিমেট ৫ কোটি পর্যন্ত), ১০ কার্যদিবস (৫ থেকে ২৫ কোটি), ১৪ কার্যদিবস (২৫ কোটির বেশি)।
- চুক্তি সই: NOA-র তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে (৫ কোটি পর্যন্ত), ২১ দিন (৫ থেকে ২৫ কোটি), ২৮ দিন (২৫ কোটির বেশি)। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে সিকিউরিটি ২৮ কার্যদিবস, চুক্তি সই ৪২ দিন।
এই সময় সংশোধনীতে বদলাতে পারে। আপনার NOA-র চিঠিতে যা লেখা, সেটাই চূড়ান্ত। সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
পারফরম্যান্স সিকিউরিটি
চুক্তির আগে চুক্তির টাকার একটা অংশ সিকিউরিটি হিসেবে দিতে হয়, তফসিল-২ অনুযায়ী পণ্যে ১০%, কাজ আর ভৌতসেবায় ৫%। এটা বেশিরভাগ সময় ব্যাংক গ্যারান্টি। রেট অফিসের এস্টিমেটের চেয়ে অনেক কম হলে বাড়তি সিকিউরিটিও চাইতে পারে। পুরো বিষয়টা আছে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি গাইডে।
একটা কথা: বিড করার সময়ই ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে রাখুন। NOA আসার পর ব্যাংক গ্যারান্টি করাতে কয়েক দিন লাগলে সময় টানাটানি হয়ে যায়।
চুক্তি সই
পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা হলে অফিস চুক্তি সইয়ের তারিখ দেয়। সাধারণত অফিসে গিয়ে সই করতে হয়। সঙ্গে রাখুন ফার্মের সিল, অনুমোদিত ব্যক্তির NID, আর অফিস যেসব কাগজ চেয়েছে। চুক্তির একটা কপি নিজের কাছে রাখুন।
চুক্তি সইয়ের পর আপনার টেন্ডার সিকিউরিটি ফেরত পাওয়ার কথা। ফেরত না এলে অফিসকে লিখে জানান।
একটা উদাহরণ
ধরুন বগুড়ার একটা অফিস থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার রাস্তা মেরামতের কাজ পেলেন, NOA এল, ১০ তারিখে। ডকুমেন্টে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ৫% লেখা। ধরুন অফিসের এস্টিমেট ৫ কোটির নিচে। তাহলে:
- ১০ তারিখ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দিতে হবে।
- সেজন্য ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকার গ্যারান্টি করিয়ে রাখতে হবে।
- ১০ তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে চুক্তি সই।
এর মধ্যে ব্যাংক গ্যারান্টিতেই সবচেয়ে বেশি সময় যায়। তাই NOA পাওয়ার দিনই ব্যাংকে যান।
দেরি করলে বা না নিলে কী হয়
- সময়মতো NOA অ্যাক্সেপ্ট না করলে, পারফরম্যান্স সিকিউরিটি না দিলে বা চুক্তি সই না করলে অফিস আপনার টেন্ডার সিকিউরিটি জব্দ করতে পারে।
- কাজটা পরের যোগ্য বিডারকে দেওয়া হতে পারে।
- বারবার এমন হলে সামনে বিড করাও আটকে যেতে পারে।
ব্যাংক গ্যারান্টিতে দেরি হচ্ছে, এমন সমস্যা হলে সময় পার হওয়ার আগেই অফিসকে লিখে জানান।
চুক্তির পর: কার্যাদেশ আর কাজ শুরু
চুক্তি সইয়ের পর অফিস কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দেয়, আর কাজ শুরুর তারিখ জানায়। e-GP-র চুক্তি ব্যবস্থাপনা অংশে (e-CMS) কাজ কতদূর এগোল, বিল আর পেমেন্টের হিসাব থাকে। সাইট বুঝে নিন, কাজের পরিকল্পনা অফিসকে দিন, আর প্রতিটি বিলের সঙ্গে মাপজোখের কাগজ ঠিক রাখুন।
NOA পাবলিক তথ্য
e-GP অনেক NOA পাবলিক করে: কে কাজ পেল, কত টাকায়, কোন অফিসে। ProcureIndex-এ এগুলো কে কাজ পেল পাতায় আছে। আপনার প্রতিযোগীরা কোথায় কত রেটে কাজ পাচ্ছে, সেটা দেখে পরের বিডের রেট ঠিক করতে পারেন। জেলা ধরেও দেখা যায়, যেমন ঢাকা বা রংপুর।
কাজ না পেলে আর মনে হলে ইভ্যালুয়েশনে ভুল হয়েছে, অভিযোগ করার পথ আছে। সেটার সময়সীমা খুব কম, তাই দ্রুত টেন্ডার ডকুমেন্টের অভিযোগ অংশটা দেখে নিন।
নতুন কাজের খোঁজে আজকের টেন্ডার দেখুন। আরও প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন ও উত্তর পাতায় যান।
PPR ২০২৫-এর বিধি নম্বর আর পুরো সময়ের ছক আছে NOA থেকে চুক্তি সই পোস্টে।
নিয়ম আর টাকার অঙ্ক মাঝে মাঝে বদলায়। বিড করার আগে সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
উৎস: eprocure.gov.bd