যোগ্যতা: অভিজ্ঞতা, টার্নওভার, লিকুইড অ্যাসেট আর PPR 2025

শেষ আপডেট: · ৩ মিনিটে পড়া যায়

এক নজরে
  • যোগ্যতার শর্ত প্রতিটি টেন্ডার ডকুমেন্টে আলাদা করে লেখা থাকে। অফিস বিধিমালা থেকে কী কী চাইতে পারে, তা বিধি ৬৫ থেকে ৬৭-তে আছে।
  • আর্থিক সামর্থ্য দেখাতে ব্যালান্স শিট, বছরের টার্নওভার আর টেন্ডার ক্যাপাসিটির কাগজ চাওয়া যায়।
  • সবচেয়ে কম রেট দিলেও শেষে আবার যোগ্যতা যাচাই হয়। সেখানে ফেল করলে পরের ফার্মের পালা।
  • কিছু LTM-এর কাজে আগের অভিজ্ঞতা লাগে না। আপনার টেন্ডারে কী লেখা, আগে সেটা দেখুন।

লোয়েস্ট রেট দিয়েও কাজ না পাওয়ার বড় একটা কারণ যোগ্যতা। কোন শর্ত কোথা থেকে আসে, কোন কাগজ লাগে আর কখন যাচাই হয়, এখানে সংক্ষেপে।

এটা আইনি পরামর্শ নয়। অঙ্ক আর শর্ত আপনার টেন্ডার ডকুমেন্টে (TDS আর যোগ্যতার ছক) আছে, সেটাই মানতে হবে। সূত্র শেষে।

শর্ত কে ঠিক করে

বিধিমালা বলে দেয় অফিস কী কী চাইতে পারে। নির্দিষ্ট টেন্ডারে কত চাওয়া হবে, তা লেখা থাকে টেন্ডার ডকুমেন্টে (বিধি ৬৫(৩))। তাই কোনো পোস্টে পড়া অঙ্ক নয়, আপনার টেন্ডারের ডকুমেন্টই আসল।

আর্থিক সামর্থ্য: টার্নওভার, ব্যালান্স শিট, টেন্ডার ক্যাপাসিটি

বিধি ৬৫(২)(জ) অনুযায়ী ফার্মকে দেখাতে হয় যে কাজটা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আছে। প্রমাণ হিসেবে চাওয়া হতে পারে ব্যালান্স শিট, বছরের টার্নওভার আর টেন্ডার ক্যাপাসিটি সংক্রান্ত কাগজ। সঙ্গে নিশ্চয়তা দিতে হয় যে ফার্ম:

  • অসচ্ছল নয়,
  • পাওনাদারদের অনুরোধে আদালতের নিয়োগ করা রিসিভার বা স্বাধীন নিরীক্ষকের অধীনে নয়,
  • দেউলিয়া ঘোষিত নয়,
  • আর্থিক কারণে ব্যবসা চালাতে সাময়িকভাবে আটকানো নেই,
  • আর এসব কারণে বা অন্য কোনো কারণে ফার্মের বিরুদ্ধে মামলা চলছে না।

বিধি ৬৬(ঙ)-তে এর কাগজের তালিকা আছে: ব্যাংকের রিপোর্ট, ব্যালান্স শিট, বার্ষিক টার্নওভার আর টেন্ডার ক্যাপাসিটির প্রমাণ।

লিকুইড অ্যাসেট নিয়ে আলাদা করে বলি। এটা নিয়ে আমি বিধিমালায় নির্দিষ্ট অঙ্ক পাইনি। অঙ্ক আর হিসাবের নিয়ম প্রতিটি টেন্ডারের ডকুমেন্টের যোগ্যতার অংশে থাকে। ওটা ভালো করে পড়ুন।

অভিজ্ঞতা আর সামর্থ্য

বিধি ৬৭(৫) অনুযায়ী অফিস অভিজ্ঞতা দেখতে পারে এভাবে:

  • আগে কয়টা একই ধরনের কাজ শেষ করেছেন (ন্যূনতম সংখ্যা)।
  • সেই কাজগুলোর টাকার অঙ্ক, আলাদা আলাদা আর সব মিলিয়ে।
  • কোন কোন দেশে কাজ করেছেন।
  • সরবরাহের ক্ষেত্রে কতটা সরবরাহের সামর্থ্য আছে।

সঙ্গে চাওয়া যায় প্রধান কর্মীদের যোগ্যতা, ন্যূনতম যন্ত্রপাতি (নিজের বা ভাড়ার চুক্তিতে আনা), উৎপাদন সামর্থ্য আর টেন্ডার ডকুমেন্টের বাকি শর্ত।

ছাড়ের একটা জায়গা। বিধি ৬৫(৬) বলছে, LTM-এর আওতায় তফসিল-২-এর সীমার ভেতরের দেশি কাজে আগের কাজের অভিজ্ঞতা লাগবে না। ছোট আর নতুন ফার্মের জন্য এটা বড় সুযোগ। তবে অফিস টেন্ডার ডকুমেন্টে অন্য কিছু লিখলে সেটাও দেখে নিন।

কোন কাগজ লাগে

বিধি ৬৬ অনুযায়ী, অফিস চাইতে পারে:

  • ট্রেড লাইসেন্স,
  • TIN আর ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সনদ,
  • আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, এই মর্মে হলফনামা,
  • পেশাগত রেজিস্ট্রেশনের কাগজ, যন্ত্রপাতির তালিকা, আগের কাজের তালিকা আর কারিগরি ও প্রশাসনিক লোকবলের সংখ্যা,
  • ব্যাংকের আর্থিক সামর্থ্যের রিপোর্ট।

যাচাই দুবার হয়

মূল্যায়ন চার ধাপে (বিধি ১১৮(২)): প্রাথমিক পরীক্ষা, কারিগরি যাচাই আর গ্রহণযোগ্যতা, রেট তুলনা, আর শেষে পোস্ট-কোয়ালিফিকেশন। বিধি ১২১ অনুযায়ী লোয়েস্ট ফার্মের যোগ্যতা শেষে আবার যাচাই হয়। অফিস আপনার দেওয়া সূত্রের (রেফারেন্স) কাছে আগের কাজের তথ্য মিলিয়ে দেখতে পারে, আর প্রয়োজনে আপনার অফিস বা সাইট দেখতে যেতে পারে (বিধি ১২১(২), (৩))। লোয়েস্ট এই যাচাইয়ে ফেল করলে পরের লোয়েস্টের যোগ্যতা দেখা হয় (বিধি ১২১(৫))।

আপনার কী করণীয়

  1. টেন্ডার ডকুমেন্টের যোগ্যতার ছক থেকে প্রতিটা শর্তের পাশে আপনার কাগজ লিখে মিলিয়ে নিন।
  2. আগের কাজের সনদ আর কাজের টাকার অঙ্ক এমনভাবে রাখুন যাতে অফিস ফোন করে মিলিয়ে নিতে পারে।
  3. ব্যালান্স শিট আর টার্নওভারের কাগজ আপ-টু-ডেট রাখুন, আর ব্যাংকের কাছ থেকে আর্থিক সামর্থ্যের সনদ আগে থেকে তুলে রাখুন।
  4. যোগ্যতা মিলছে কি না, বিড করার আগে দেখে নিন। টেন্ডার পাতার Bid Brief যোগ্যতার শর্ত আলাদা করে দেখায়। প্ল্যান প্রাইসিং পাতায়।
  5. নিজের জেলায় কী ধরনের কাজ আসছে, দেখুন সব টেন্ডার পাতায়। কত রেটে যায়, দেখুন রেট পাতায়।

পরের পোস্ট: গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণ।

সূত্র

যা প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হয়

টার্নওভার আর টেন্ডার ক্যাপাসিটি কি বিধিমালায় আছে?
হ্যাঁ। বিধি ৬৫(২)(জ) আর ৬৬(ঙ) অনুযায়ী অফিস আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে ব্যালান্স শিট, বছরের টার্নওভার আর টেন্ডার ক্যাপাসিটির কাগজ চাইতে পারে। অঙ্ক টেন্ডার ডকুমেন্টে থাকে।
LTM-এর কাজে কি অভিজ্ঞতা লাগে?
বিধি ৬৫(৬) অনুযায়ী তফসিল-২-এর সীমার ভেতরে LTM-এর দেশি কাজে আগের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। তবু আপনার টেন্ডার ডকুমেন্টে কী লেখা, দেখে নিন।
সবচেয়ে কম দরেও কেন বাদ যেতে পারি?
শেষ ধাপে যোগ্যতা আবার যাচাই হয় (বিধি ১২১)। কাগজ বা সামর্থ্য না মিললে লোয়েস্ট হয়েও বাদ পড়তে পারেন।

নিয়ম আর টাকার অঙ্ক মাঝে মাঝে বদলায়। বিড করার আগে সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।

উৎস: eprocure.gov.bd

নতুন সরকারি টেন্ডার রোজ সকাল-বিকেল ফ্রি পান

মোবাইল নম্বর দিন, অথবা Telegram-এ এক ট্যাপে চালু করুন। লগইন লাগবে না।

ফ্রি · লগইন লাগবে না · যখন খুশি বন্ধ করুন

আরও গাইড

নতুন টেন্ডার রোজ সকাল-বিকেল, ফ্রি অ্যালার্ট চালু করুন