OTM, LTM, RFQ, DPM: সরকারি কেনাকাটার পদ্ধতির পার্থক্য
শেষ আপডেট: · ৫ মিনিটে পড়া যায়
- OTM (ওপেন টেন্ডার): সবার জন্য খোলা, টাকার কোনো ওপরের সীমা নেই।
- LTM (লিমিটেড টেন্ডার): শুধু অফিসে এনলিস্টেড ঠিকাদার বা বাছাই করা কয়েকজন সাপ্লায়ার, সাধারণত ছোট কাজে।
- RFQ (কোটেশন): কম টাকার কেনাকাটা, কয়েকজনের কাছ থেকে রেট নিয়ে।
- DPM (সরাসরি কেনা): একজনের কাছ থেকে সরাসরি, জরুরি বা বিশেষ কারণে।
- কোন পদ্ধতি কত টাকা পর্যন্ত চলে, তা বিধিমালার শিডিউলে থাকে আর বদলায়। সর্বশেষ সীমা e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
OTM, LTM, RFQ আর DPM হলো সরকারি কেনাকাটার পদ্ধতি, মানে অফিস কীভাবে ঠিকাদার বা সাপ্লায়ার বাছবে তার নিয়ম। পদ্ধতি দেখে বোঝা যায় কে বিড করতে পারবে, কত প্রতিযোগিতা হবে, আর কতটা কাগজপত্র লাগবে। প্রতিটি e-GP টেন্ডারের নোটিশে পদ্ধতিটা লেখা থাকে। নতুন ঠিকাদারের জন্য এটা জরুরি, কারণ সব পদ্ধতিতে সবাই বিড করতে পারে না।
এই পদ্ধতিগুলো আছে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ (PPA) আর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ (PPR 2025)-এ। কোন পদ্ধতি কত টাকা পর্যন্ত চলবে, সেই সীমা বিধিমালার শিডিউলে থাকে। মূল কয়েকটা সীমা নিচে দিলাম, পুরোটা PPR 2025 পোস্টে আছে। সীমা বদলাতে পারে, তাই বিড করার আগে নোটিশ মিলিয়ে নিন।
OTM (ওপেন টেন্ডার)
ওপেন টেন্ডারিং মেথড হলো সরকারি কেনাকাটার মূল পদ্ধতি। টেন্ডার e-GP-তে আসে, বড় টেন্ডার পত্রিকাতেও। যোগ্যতার শর্ত মিললে যে কেউ বিড করতে পারে। টাকার কোনো ওপরের সীমা নেই, তাই বড় কাজ প্রায় সবই OTM-এ হয়।
- কে বিড করতে পারে: e-GP-তে রেজিস্টার করা যেকোনো ফার্ম, যার যোগ্যতা মেলে।
- প্রতিযোগিতা: বেশি। ভালো জেলায় একটা কাজে অনেক বিড পড়ে।
- কী লাগে: টেন্ডার সিকিউরিটি, লিকুইড অ্যাসেট, টার্নওভার আর অভিজ্ঞতার প্রমাণ।
- কার জন্য: যাদের অভিজ্ঞতা আর টাকার জোর আছে।
LTM (লিমিটেড টেন্ডার)
লিমিটেড টেন্ডারিং মেথডে বিড করতে পারে শুধু কিছু ফার্ম। Works-এ সাধারণত সেই অফিসে এনলিস্টেড ঠিকাদাররা, যেমন LGED বা অন্য প্রকৌশল দপ্তরে এনলিস্টেড ফার্ম। Goods-এ এমন জিনিস কেনায় হয় যা অল্প কয়েকজন সাপ্লায়ারই দিতে পারে। সাধারণত ছোট অঙ্কের কাজ। এনলিস্টেড ফার্মের কাছ থেকে LTM-এ তফসিল-২ অনুযায়ী সীমা পণ্য, ভৌতসেবা আর একক সেবায় ৫০ লাখ টাকা, দেশি কাজে ৫ কোটি টাকা।
Works-এর LTM-এ দেশি Works-এর LTM-এ (এনলিস্টেড ফার্মের কাছ থেকে) এস্টিমেটের ৫%-এর বেশি কম বা বেশি রেটে কোট করলে বিড বাতিল (বিধি ৮০(২), তফসিল-২)। একই রেটে একাধিক যোগ্য বিড এলে লটারিতে কাজ দেওয়া হয় (বিধি ১১৯)। এর বাইরে আপনার টেন্ডারের ডকুমেন্টে যা লেখা, সেটাও মিলিয়ে নিন।
- কে বিড করতে পারে: শুধু এনলিস্টেড বা আমন্ত্রিত ফার্ম।
- প্রতিযোগিতা: এনলিস্টেড ফার্মের মধ্যে, তবে সংখ্যায় অনেক হতে পারে।
- কার জন্য: স্থানীয় ছোট ঠিকাদার, যাদের নির্দিষ্ট অফিসে এনলিস্টমেন্ট আছে।
এনলিস্টমেন্ট না থাকলে LTM টেন্ডারের ডকুমেন্ট কিনে টাকা নষ্ট করবেন না। ProcureIndex-এর সব টেন্ডার পাতায় LTM আর RFQ আলাদা করে দেখার ফিল্টার আছে।
RFQ (কোটেশন)
রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন মেথড হলো কম টাকার কেনাকাটার সহজ পদ্ধতি। অফিস কয়েকজন সাপ্লায়ার বা ঠিকাদারের কাছ থেকে রেট চায়, আর যোগ্য কোটেশনের মধ্যে যে লোয়েস্ট, তাকে কাজ দেয়। সাধারণত তৈরি জিনিস কেনা, ছোট মেরামত বা ছোট সেবার জন্য।
- কে বিড করতে পারে: অফিস যাদের কাছে কোটেশন চায়। e-GP-তে এলে রেজিস্টার করা ফার্মও বিড করতে পারে, নোটিশে শর্ত থাকে।
- কাগজপত্র: কম। টেন্ডার সিকিউরিটি বা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি লাগে না (বিধি ৯১(৬))।
- টাকার সীমা: প্রতিটি কেনাকাটার আর বছরে মোট, দুটোরই সীমা আছে।
- কার জন্য: নতুন বা ছোট ফার্ম, যারা অভিজ্ঞতা জমাতে চায়।
e-GP-তে RFQ-র কয়েকটা রকম দেখবেন, যেমন RFQ, RFQU, RFQL। সবগুলোর মূল কথা একই। অল্প টাকার কাজে তাড়াতাড়ি রেট নেওয়া।
DPM (সরাসরি কেনা)
ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে অফিস প্রতিযোগিতা ছাড়াই একজনের কাছ থেকে সরাসরি কেনে। এটা ব্যতিক্রম, আর কারণ ছাড়া করা যায় না। যেমন:
- জরুরি অবস্থা, দুর্যোগ বা হঠাৎ দরকার।
- জিনিসটা শুধু একজনই দেয়, প্রোপ্রাইটারি।
- চলমান চুক্তির সঙ্গে মিল রাখতে একই সাপ্লায়ারর কাছ থেকে বাড়তি কেনা।
- সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা।
সাধারণ ঠিকাদারের DPM-এ বিড করার চান্স প্রায় নেই। তবে DPM-এ কে কাজ পেল, সেটা কে কাজ পেল পাতায় দেখা যায়।
OSTETM আর অন্য পদ্ধতি
- OSTETM (এক ধাপ, দুই খাম): বিড দুই ভাগে জমা হয়। আগে কারিগরি অংশ খোলা হয়, যারা পাস করে শুধু তাদের রেট খোলা হয়। জটিল Goods বা Works-এ দেখা যায়।
- TSTM (দুই ধাপের টেন্ডার): খুব জটিল কাজে, যেখানে আগে কারিগরি দিক নিয়ে কথা বলে তারপর চূড়ান্ত বিড নেওয়া হয়।
- পরামর্শক সেবা: QCBS, LCS, SSS-এর মতো আলাদা পদ্ধতি আছে, যেখানে রেটের সঙ্গে মানও ধরা হয়।
এক নজরে তুলনা
| পদ্ধতি | কে বিড করতে পারে | কাজের আকার | টেন্ডার সিকিউরিটি |
|---|---|---|---|
| OTM | যোগ্য সবাই | যেকোনো, বড় কাজ এখানেই | সাধারণত লাগে |
| LTM | এনলিস্টেড বা আমন্ত্রিত | ছোট থেকে মাঝারি | সাধারণত লাগে |
| RFQ | যাদের কাছে রেট চাওয়া হয় | ছোট | লাগে না |
| DPM | একজন, সরাসরি | বিশেষ অবস্থায় | লাগে না |
পদ্ধতি দেখে কী বোঝা যায়
পদ্ধতি দেখে অফিসের হালচালও বোঝা যায়। কোনো অফিস বেশিরভাগ কাজ LTM-এ দিলে বুঝবেন সেখানে এনলিস্টমেন্ট লাগবেই। কোনো অফিস বছরে অনেক RFQ দিলে ছোট সাপ্লায়ারর জন্য সেটা নিয়মিত কাজের জায়গা। আর OTM-এ কোন ফার্ম বারবার কাজ পাচ্ছে, সেটা দেখলে আপনার আসল প্রতিযোগী কারা, বোঝা যায়।
ProcureIndex-এ প্রতিটি অফিসের পাতায় সেখানে কারা কাজ পেয়েছে আর কোন ধরনের টেন্ডার আসে, দেখা যায়। টেন্ডারের পাতাতেও পদ্ধতিটা বাংলায় লেখা থাকে, যেমন "OTM (ওপেন টেন্ডার)"।
আপনার জন্য কোনটা
একদম নতুন হলে RFQ আর ছোট OTM দিয়ে শুরু করুন। এতে অভিজ্ঞতার সনদ জমবে, যা পরে বড় কাজের যোগ্যতায় লাগে। স্থানীয়ভাবে কাজ করলে নিজের জেলার প্রকৌশল দপ্তরে এনলিস্টমেন্ট নিন, তাহলে LTM-এও বিড করতে পারবেন। অভিজ্ঞতা আর লিকুইড অ্যাসেট বাড়লে বড় OTM-এ যান।
নিজের জেলায় কোন পদ্ধতির টেন্ডার বেশি আসে, দেখুন জেলার পাতায়, যেমন বগুড়া, যশোর বা নোয়াখালী। আজ কী এসেছে, দেখুন আজকের টেন্ডার পাতায়। টেন্ডার খোঁজার পুরো পথ আছে সরকারি টেন্ডার কীভাবে খুঁজবেন গাইডে, আর ছোট প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন ও উত্তর পাতায়।
বিধি নম্বরসহ পুরো হিসাব OTM, LTM, RFQ, DPM: PPR 2025 পোস্টে।
নিয়ম আর টাকার অঙ্ক মাঝে মাঝে বদলায়। বিড করার আগে সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
উৎস: eprocure.gov.bd