e-GP রেজিস্ট্রেশন: ধাপে ধাপে (ফি, কাগজপত্র, অনুমোদন)
শেষ আপডেট: · ৫ মিনিটে পড়া যায়
- বিড করতে আপনার ফার্মকে e-GP পোর্টাল eprocure.gov.bd-তে টেন্ডারার হিসেবে রেজিস্টার করতে হয়।
- লাগবে: ইমেইল, ট্রেড লাইসেন্স, TIN, BIN, NID, ব্যাংকের তথ্য, আর লিমিটেড কোম্পানি হলে RJSC-র কাগজ।
- নতুন রেজিস্ট্রেশন ফি বহু বছর ৫,০০০ টাকা আর বছরে রিনিউ ২,০০০ টাকা ছিল। সর্বশেষ ফি e-GP-তে মিলিয়ে নিন।
- ফি দিতে হয় e-GP-র পার্টনার ব্যাংকে। যাচাই শেষ হলে e-GP ইমেইলে জানায়।
- পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না। বিড জমার সময় এটাই আপনার সই।
ধাপগুলো
- eprocure.gov.bd-তে গিয়ে নতুন ইউজার রেজিস্ট্রেশনে টেন্ডারার হিসেবে শুরু করুন।
- ফার্মের নিজের একটা ইমেইল আর শক্ত পাসওয়ার্ড দিন, ইমেইলে আসা লিংকে ক্লিক করে যাচাই করুন।
- ফার্মের ধরন, ঠিকানা, মালিক বা অনুমোদিত ব্যক্তির তথ্য পূরণ করুন।
- ট্রেড লাইসেন্স, TIN, BIN, NID আর অন্য কাগজের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
- e-GP-র যেকোনো পার্টনার ব্যাংকে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি দিন।
- e-GP কাগজ যাচাই করে অনুমোদন দিলে ইমেইল পাবেন, তারপর লগইন করে বিড করতে পারবেন।
e-GP রেজিস্ট্রেশন হলো সরকারি ই-টেন্ডারিং পোর্টাল eprocure.gov.bd-তে আপনার ফার্মের নাম টেন্ডারার হিসেবে তোলা। এটা ছাড়া ডকুমেন্ট কেনা বা বিড করা যায় না। একবার রেজিস্টার করলে দেশের যেকোনো অফিসের e-GP টেন্ডারে বিড করতে পারবেন, শুধু প্রতি বছর রিনিউ করতে হবে। পুরো কাজটা অনলাইনে হয়, শুধু ফি দিতে একবার ব্যাংকে যেতে হয়।
কারা রেজিস্টার করে
সরকারি টেন্ডারে Works, Goods বা Services-এ বিড করতে চাইলে সবারই রেজিস্ট্রেশন লাগে। প্রোপ্রাইটরশিপ, পার্টনারশিপ, লিমিটেড কোম্পানি, সবাই পারে। পরামর্শক হিসেবে কাজ করলে ব্যক্তি পরামর্শক হিসেবেও রেজিস্টার করা যায়। বিদেশি ফার্মের জন্য আলাদা ফি আর শর্ত আছে।
শুধু টেন্ডার দেখতে চাইলে রেজিস্ট্রেশন লাগে না। e-GP-র পাবলিক পাতা আর ProcureIndex-এর আজকের টেন্ডার যে কেউ দেখতে পারে।
কী কী কাগজ লাগবে
আগে থেকে সব কাগজ স্ক্যান করে এক ফোল্ডারে রাখুন। লেখা পড়া যায় এমন হতে হবে। সাধারণত যা চায়:
- ইমেইল: ফার্মের নিজের ইমেইল দিন, কোনো দোকান বা দালালের না। এটাই আপনার ইউজার আইডি, আর পরে সব নোটিশ এখানেই আসবে।
- ট্রেড লাইসেন্স: মেয়াদ থাকতে হবে।
- TIN সার্টিফিকেট: ফার্ম বা মালিকের e-TIN।
- ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, BIN: অনেক কাজে লাগে।
- NID: মালিক বা অনুমোদিত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র।
- ব্যাংকের তথ্য: ফার্মের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
- লিমিটেড কোম্পানি হলে: RJSC-র সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন, মেমোরেন্ডাম আর আর্টিকেল।
- পার্টনারশিপ হলে: পার্টনারশিপ ডিড।
- অনুমোদন পত্র: মালিক ছাড়া অন্য কেউ অ্যাকাউন্ট চালালে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা বোর্ডের অনুমোদন লাগে।
- ছবি: অনুমোদিত ব্যক্তির ছবি।
কাগজের লিস্ট মাঝে মাঝে বদলায়। রেজিস্টার শুরুর আগে e-GP-র হোম পেজে টেন্ডারার রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশনাটা একবার পড়ে নিন।
ফি কত, কোথায় দেবেন
দেশি টেন্ডারারের জন্য নতুন রেজিস্ট্রেশন ফি বহু বছর ৫,০০০ টাকা ছিল, আর প্রতি বছর রিনিউ ফি ২,০০০ টাকা। বিদেশি টেন্ডারারের ফি আলাদা। ফি বদলাতে পারে, তাই সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
ফি দিতে হয় e-GP-র সঙ্গে যুক্ত পার্টনার ব্যাংকের কোনো শাখায়। অনেক বড় সরকারি আর বেসরকারি ব্যাংক এই লিস্টে আছে, পুরো লিস্ট e-GP সাইটে পাবেন। ব্যাংকে আপনার রেজিস্টার করা ইমেইল বলতে হবে। ব্যাংক টাকা নিয়ে সিস্টেমে পেমেন্ট কনফার্ম করে দেয়। রসিদটা রেখে দিন।
ধাপে ধাপে
মূল ধাপগুলো উপরে দেওয়া আছে। কয়েকটা ধাপে একটু বেশি খেয়াল রাখতে হয়:
ইমেইল যাচাই: ফর্ম জমার পর e-GP আপনার ইমেইলে একটা লিংক পাঠায়। সেটা কিছু সময়ের মধ্যে না খুললে আবার শুরু করতে হতে পারে। স্প্যাম ফোল্ডারও দেখুন।
তথ্য পূরণ: ফার্মের নাম ট্রেড লাইসেন্সে যেমন আছে, ঠিক তেমন লিখুন। নামের বানান আলাদা হলে যাচাইয়ে আটকে যায়। কাজের ধরন আর অভিজ্ঞতার তথ্যও এখানে দিতে হয়।
আপলোড: প্রতিটি ফাইলের আকারের সীমা আছে। খুব বড় স্ক্যান হলে ছোট করে নিন, কিন্তু লেখা যেন পড়া যায়।
যাচাই আর অনুমোদন: ফি জমা আর কাগজ আপলোডের পর e-GP-র লোকজন কাগজ মিলিয়ে দেখে। সাধারণত কয়েক কাজের দিন লাগে। কিছু ভুল থাকলে ইমেইলে জানায়, ঠিক করে আবার পাঠাতে হয়। অনুমোদন হলে ইমেইল আসে, তারপর লগইন করে টেন্ডারে বিড করতে পারবেন।
পাসওয়ার্ড আর টোকেনের কথা
অনেকে জিজ্ঞেস করেন, বিড করতে আলাদা টোকেন বা ডিজিটাল সার্টিফিকেট লাগে কি না। e-GP-তে বিড জমার শেষ ধাপে আপনার লগইন পাসওয়ার্ড দিয়েই বিড সই আর লক হয়। তাই পাসওয়ার্ডটাই আসলে আপনার সই। এটা কাউকে দেবেন না, কম্পিউটার দোকানের লোককেও না। কেউ পাসওয়ার্ড জানলে আপনার নামে বিড করতে বা বিড বাতিল করতে পারে। e-GP নতুন কিছু চালু করলে সাইটের নোটিশে জানায়, নজর রাখুন।
খরচের হিসাব
রেজিস্ট্রেশনের খরচ শুধু ফি না। হিসাবে রাখুন:
- রেজিস্ট্রেশন ফি, তারপর প্রতি বছর রিনিউ ফি।
- ট্রেড লাইসেন্স, TIN আর ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন না থাকলে সেগুলোর খরচ।
- প্রতিটি টেন্ডারে ডকুমেন্টের দাম, যা ফেরত হয় না।
- প্রতিটি বিডে টেন্ডার সিকিউরিটি, যা কাজ না পেলে ফেরত আসে।
- ব্যাংক গ্যারান্টির চার্জ।
অনেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দোকান বা এজেন্টকে টাকা দেন। নিজে করলে খরচ শুধু ফি, আর পাসওয়ার্ডও আপনার হাতেই থাকে। কাজটা কঠিন নয়, এক বিকেলেই ফর্ম পূরণ করা যায়।
রিনিউ ভুলবেন না
রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এক বছর। মেয়াদ শেষ হলে অ্যাকাউন্ট আটকে যায়, তখন বিড করা যায় না। ক্লোজিংয়ের আগের দিন এটা টের পেলে আর কিছু করার থাকে না। তাই মেয়াদ শেষের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে রিনিউ ফি দিয়ে দিন। ট্রেড লাইসেন্স বা অন্য কাগজ রিনিউ হলে নতুন কপিও আপলোড করে রাখুন।
রেজিস্ট্রেশনের পর প্রথম টেন্ডার
রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে কাজ শুরু:
- নিজের জেলা আর কাজের ধরনের টেন্ডার খুঁজুন। পথ দেখানো আছে সরকারি টেন্ডার কীভাবে খুঁজবেন গাইডে।
- যোগ্যতার শর্ত মিলিয়ে ডকুমেন্টের দাম দিয়ে ডকুমেন্ট কিনুন।
- টেন্ডার সিকিউরিটি (জামানত) সময়মতো ব্যাংকে দিন।
- ক্লোজিংয়ের অন্তত এক দিন আগে বিড জমা দিন। শেষ মুহূর্তে সাইট ধীর হয়ে যায়।
প্রতিটি জেলার পাতায়, যেমন ঢাকা বা রাজশাহী, চলমান টেন্ডারের সঙ্গে সেখানে কারা বেশি কাজ পায়, তাও দেখতে পাবেন।
সাধারণ সমস্যা
- ইমেইল আসেনি: স্প্যাম ফোল্ডার দেখুন, তারপর e-GP হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন।
- যাচাই আটকে আছে: সাধারণত নামের বানান বা ঝাপসা স্ক্যানের কারণে। ইমেইলে কারণ লেখা থাকে।
- একই ইমেইলে দুই ফার্ম: হয় না। প্রতিটি ফার্মের আলাদা ইমেইল লাগে।
- পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন: লগইন পাতায় পাসওয়ার্ড রিসেটের অপশন আছে, রিসেট লিংক রেজিস্টার করা ইমেইলে আসে।
আরও প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন ও উত্তর পাতা দেখুন। e-GP-র নিজের হেল্পডেস্ক নম্বর আর নির্দেশিকা eprocure.gov.bd-তে আছে।
নিয়ম আর টাকার অঙ্ক মাঝে মাঝে বদলায়। বিড করার আগে সর্বশেষ নিয়ম e-GP/BPPA-তে মিলিয়ে নিন।
উৎস: eprocure.gov.bd